Skip to main content

Osgood Schramm model of communication in Bengali

 











*Willbur Schramm's Model of Communication*

এই মডেলে জ্ঞাপন এর ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রস্তুত করা হয়। Schramm জ্ঞাপন প্রকৃতি সম্পর্কে একটি সাধারণ ব্যাখ্যা প্রদান করেন।  Schramm মানবজ্ঞাপনের একটি নকশা চিত্র পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি দুটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সেগুলি হল___


১. বার্তা প্রেরণ

২. বার্তা গ্রহণ


তিনি অ্যারিস্টোটলের মতোই বলেছেন জ্ঞাপন এর জন্য অন্তত তিনটি উপাদান ভীষন জরুরী____


১. প্রেরক

২. বার্তা

৩. গ্রাহক


জ্ঞাপন এর মূল তথ্য এবং প্রকৃতি সম্পর্কে Schramm এর মডেল থেকে ধারণা পাওয়া যায়।


যদি মাইক্রোফোন বার্তাপ্রেরক হয় এবং ইয়ারফোন বার্তা গ্রাহক হয়, এটি একটি বৈদ্যুতিক জ্ঞাপনকে উপস্থাপন করে। যদি উৎস বা বার্তা প্রেরককে একই ব্যক্তি হিসেবে ধরে নেওয়া হয় এবং ভাষা হিসেবে সংকেতকে গ্রহণ করা হয় তাহলে এই জ্ঞাপন চিত্র মানবিক জ্ঞাপনকে উপস্থাপন করে। Schramm অনুভব করতেন এইরূপ একটি অবস্থা যেমন জ্ঞাপন এর শক্তিশালী দিকটিকে উপস্থাপন করে তেমনি দুর্বলতার দিকটিকেও তুলে ধরে।


*Schramm এর প্রথম মডেল*


১. যদি উৎসের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকে অথবা বার্তাটি যদি সঠিক এবং যথেষ্ট ফলপ্রসূ রূপে চিহ্ন বা প্রতীক এর মাধ্যমে প্রেরিত না হয়।

২. যদি তা যথেষ্ট দ্রুত এবং যথার্থরূপে গ্রাহকের কাছে প্রেরিত না হয়। 

৩. যদি বার্তাটি প্রেরণের সময় বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করতে না পারে। 

৪. গ্রাহক যদি প্রেরিত বার্তা সঠিক ভাবে গ্রহন করতে না পারে। 

৫. গ্রাহক যদি যথার্থ উত্তর দিতে না পারে।


তাহলে জ্ঞাপন প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়।


*Schramm এর দ্বিতীয় মডেল*


দ্বিতীয় মডেলটিতে Schramm অভিজ্ঞতা ক্ষেত্র বা FOE এর ধারনা কে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। জ্ঞাপন সংক্রান্ত Schramm এর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সেই সময় অন্যান্য ধারণা থেকে অনেক বেশি বিস্তৃত। Schramm এর মতে দুটি মানুষের অভিজ্ঞতা ক্ষেত্র যত বেশি জ্ঞাপন হবার সম্ভবনা তত বেশি।


*Schramm এর তৃতীয় মডেল*


Schramm এর মডেল অনুসারে একটি জ্ঞাপন প্রক্রিয়ার প্রতিটি মানুষকেই বার্তা গ্রাহক ও বার্তা প্রেরক হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে। কারণ ব্যক্তিও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সে বার্তা প্রেরণ ও গ্রহণ করতে শেখে।



Schramm অনুভব করেছিলেন switch board centre এর মতো।  Switch board যেমন বিদ্যুতের প্রবাহকে সর্বত্র প্রেরণ করে তেমনি জ্ঞাপন প্রক্রিয়া ব্যক্তির মাধ্যমে সঞ্চারিত হয়। তিনি বলেছিলেন আমরা জ্ঞাপন কে তোমাদের মধ্যে দিয়ে স্থানান্তরিত একটি পদ্ধতি রূপে ভাবতে পারি। যা নিশ্চিত রূপে ব্যাখ্যা অভ্যাস ক্ষমতা ও সমর্থনের দ্বারা পরিবর্তিত হয়। তার মতে আমাদের অন্য উপাদান সংযুক্ত করার প্রয়োজন আছে, একটি জ্ঞাপন প্রক্রিয়ায়। যেটি হল ব্যাখ্যাকারীর ভূমিকা। এই মডেলটিতে জ্ঞাপন কে একটি বৃত্তাকার প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ব্যাখ্যা প্রদান বলতে বার্তা গঠনের মানসিক প্রক্রিয়া কে বোঝানো হয়েছে। 



Shannon Wilbur এর প্রেরক ও গ্রাহক এক্ষেত্রে বার্তাপ্রেরক ও বার্তাগ্রাহক। তবে Schramm এর মডেল অনেক বেশি উন্নততর। Schramm এর তৃতীয় মডেলের প্রতিবার্তার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। Schramm দুই ধরনের বিঘ্নতার কথা উল্লেখ করেছেন। যথা____


১. ভাষা, মনোভাব ইত্যাদি সম্বন্ধে।

২. টেলিফোন, টেলিভিশন অর্থাৎ যন্ত্রসংক্রান্ত।

*Osgood Model*


Osgood তার মডেলকে সুসংহত করে একটি নতুন মাত্রা দিয়েছেন। চক্রাকার মডেলের অনুকরণে তিনি noise ও ব্যক্তিত্বের প্রভাবকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছিলেন। Osgood মডেল এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো বিরামহীন জ্ঞাপন প্রক্রিয়ায় noise এর পরিমাপ কমতে থাকে এবং ব্যক্তিত্বের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। পরস্পরকে জানার সুযোগ যত বাড়বে পরস্পরের ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সামঞ্জস্য রাখার চাহিদা ততো বাড়বে। এর ফলে ব্যাপক ও গ্রহীতার মধ্যে দূরত্ব কমে আসবে এবং ব্যক্তিত্বের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে। 


পারস্পরিক ও দলগত জ্ঞাপন এর ক্ষেত্রে এই মডেলটির যথেষ্ট প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। একজন ভালো বক্তা-শ্রোতা তথা সমগ্র শ্রোতামন্ডলীর উপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। বক্তার ব্যক্তিত্ব বক্তব্যকে সহজবোধ্য করে তোলে ঠিক একই রকমভাবে একজন ভালো শিক্ষক ও গণনেতা যথাক্রমে তার ছাত্র ও জনসাধারণের মধ্যে বিশেষ প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।

                           - Tanushri Dutta

Comments

Popular posts from this blog

Film production steps in bengali চলচ্চিত্র নির্মাণ কৌশলের ধাপ

 চলচ্চিত্র নির্মাণ কৌশলের ধাপ চলমান চিত্রই হলো চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রের প্রভাব এবং প্রচার আধুনিক সমাজে যে কতটা তা না বললেও চলে। চলচ্চিত্র একপ্রকারের দৃশ্যমান বিনোদন মাধ্যম। যেখানে একসঙ্গে দৃশ্য ও শ্রাব্য দুটিই উপভোগ করা যায়। বিনোদন দুনিয়ায় সবচেয়ে দৃঢ় এবং বিশ্বাসযোগ্য মাধ্যমের মধ্যে চলচ্চিত্রের স্থান শীর্ষে। এই চলচ্চিত্র শব্দটি এসেছে  চলমান চিত্র তথা 'মোশন পিকচার' থেকে। সাধারণত চলচ্চিত্রের ধারণা শুরু হয় ঊনবিংশ শতকের শেষ দিক থেকে। বাংলায় চলচ্চিত্রের প্রতিশব্দ হিসেবে ছায়াছবি, সিনেমা, মুভি বা ফিল্ম শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়।                   একটি চলচ্চিত্রের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায় হলো চলচ্চিত্র নির্মাণ কৌশল। চলচ্চিত্র নির্মাণ হলো একটি প্রারম্ভিক পর্যায়। কারণ এই নির্মাণ কৌশলের ওপর ভিত্তি করেই একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র তৈরি হয়। চলচ্চিত্র নির্মাণ হলো প্রচুর সময়, ধৈর্য আর অমায়িক পরিশ্রমের একটি পরিনতিমাত্র। একটি চলচ্চিত্র নির্মাণকে তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়– ১) প্রি-প্রোডাকশন            ২) প্রো-প্রোডাকশন  ...

Dominant Paradigm in bengali - উন্নয়নের প্রভাবশালী দৃষ্টান্ত

 উন্নয়নের প্রভাবশালী দৃষ্টান্ত উন্নয়নের পশ্চিমা মডেল  ১৯৫০ এবং ১৯৬০ এর দশকে প্রাধান্য পেয়েছিল।  আধুনিকীকরণের দৃষ্টান্ত ১৯৪৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের খুব শীঘ্রই উত্থিত হয়েছিল। "অনুন্নত দেশগুলিকে" তাদের আধুনিকায়নের মাধ্যমে এবং মুক্ত-বাজারের পদ্ধতির মাধ্যমে দারিদ্র্যের পরিস্থিতি থেকে বের করে আনা একটি চ্যালেঞ্জ হিসাবে উন্নয়নের কল্পনা করেছিল।  এই দৃষ্টান্তের উৎস , নীতি এবং প্রয়োগগুলি উত্তরোত্তর বছরগুলির ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা উচিত, এটি শীত যুদ্ধের সময় হিসাবেও পরিচিত।  সেই ধারাটিতে যখন বিশ্ব প্রভাব দুটি পরাশক্তি দ্বারা পোলারাইজ করা হয়েছিল: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন।  তাদের প্রভাব উন্নয়ন সহ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে প্রতিটি ক্ষেত্রে পৌঁছেছে।  এই প্রসঙ্গে, পশ্চিমা দেশগুলির রাজনৈতিক বিজ্ঞানী এবং পণ্ডিতদের দ্বারা প্রচারিত আধুনিকীকরণের দৃষ্টান্ত সামাজিক জীবনের প্রতিটি মাত্রায় এতটাই শক্তিশালী এবং এতটাই বিস্তৃত হয়ে উঠল যে এটি "প্রভাবশালী দৃষ্টান্ত" হিসাবেও পরিচিতি লাভ করে।  রজার্স (১৯৬০) এটিকে উন্নয়নের ক্ষেত্রে "প...

RIGHT TO INFORMATION (R.T.I.) in Bengali - তথ্যের অধিকার সংক্রান্ত আইন

তথ্যের অধিকার সংক্রান্ত আইন : RIGHT TO INFORMATION (R.T.I.) ২০০৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকার প্রযোজ্য আইন এই তথ্যের অধিকার সংক্রান্ত আইন বা আর. টি. আই. ২০০৫ সালের ১৫ই জুন কেবল জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য ছাড়া সমগ্র ভারতবর্ষে লাগু হয়এই আইন। এই আইন অনুযায়ী ভারতবর্ষের প্রতিটি সাধারণ মানুষের অধিকার সরকারি দফতরের প্রতিটি তথ্য গুলি জানার। ইহার উদ্দেশ্য প্রত্যেক জন কর্ত্তৃপক্ষের কাজে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার উন্নতি ঘটানো, কেন্দ্রীয় তথ্য আয়োগ ও রাজ্য তথ্য আয়োগ স্থাপন এবং তত্সম্পর্কিত বা তত্সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি নির্দিষ্ট করা। কিভাবে কাজ করে এই নিয়ম গুলি? যেহেতু ভারতবর্ষের প্রতিটি সাধারণ মানুষ ট্যাক্স দিয়ে থাকেন কিংবা কর দিয়ে দিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে তার অধিকার যে সরকার দ্বারা সমস্ত তথ্য সঠিক ভাবে জানা। এবং সরকারি সমস্ত তথ্য গুলি জানা। এর মারফত জনগণ নিজেকে শক্তিশালী কিংবা ক্ষমতাবান বলে মনে করতেই পারেন। কর দেওয়ার জন্য তাদের কর বা ট্যাক্স গুলি কিভাবে সরকার ব্যবহার করছেন তা জানা জনগণের অধিকার। এবং সরকারকে প্রশ্ন করাও সেই অধিকারের মধ্যেই পরে থাকে। এক্ষেত্রে দশটি নিয়মাবলি মেনে চলা হয়, অর্থাৎ জনগণ কোন কোন বিষয়ের ওপর প্রশ...