চতুর্থ স্তম্ভ রূপে গণমাধ্যম
(Mass media as fourth estate):
পৃথিবীর মধ্যে ভারত হলো সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এই গণতন্ত্রে কিছু স্তম্ভ আছে।
সেগুলি হলো,
১. বিধানিক (Legislature)
২. প্রশাসনিক (Executive)
৩. বিচার ব্যবস্থা (Judiciary)
কিন্তু এই গণতন্ত্রে আরও এক স্তম্ভের কথা বার বার শোনা যায়। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। আর এই চতুর্থ স্তম্ভ রূপে গণমাধ্যম(Mass Media)গণতন্ত্রে বিরাজমান। চতুর্থ স্তম্ভ রূপে গণমাধ্যম বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। কারণ ওপরের তিনটি স্তম্ভের মধ্যে যদি কোথাও ভুল ধরা পড়ে কিংবা ফাটল ধরা পরে, গণমাধ্যমের কাজ সেই ফাটলের খবর জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে তা মেরামত করানো। কেবল বিনোদন এর ক্ষেত্রেই এটির ব্যবহার সীমিত থাকে না। রাজনীতি এবং সাংবিধানিক অর্থেও মিডিয়ার প্রভাব খুব বেশি। একজন সাংবাদিকের কাজ কেবল জনগণের কাছে সত্যতা তুলে ধরা এবং জনগনের প্রতি নিজেদের কথা গুলো কাজের মাধ্যমে পরিবেশন করা। বিশ্বের সমস্ত দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক খবরগুলো তাঁরা আমাদের কাছে ছড়িয়ে দেন। কখনও সতর্ক করেন কখনও অনুপ্রাণিত করেন।
সংবাদ মাধ্যমের কাজ যেহেতু কেবল সত্যিটা তুলে ধরা তাই তাদের ওপর ভিত্তি করেই জনগন সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। যেমন উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতেই পারে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী কে হবে। যদি নেতাদের কোনো দুর্নীতি ধরা পড়ে, সেক্ষেত্রে মিডিয়া তা তুলে ধরে জনগণের কাছে সরাসরি, এবং যার দ্বারা জনগণের সিদ্ধান্ত নিতে কোনো অসুবিধা হয় না। তাছাড়াও দেশের কোথায় বন্যা হচ্ছে কিংবা বিপর্যয় ঘটছে, কত মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে সমস্তটাই তারা তুলে ধরেন সাধারণ মানুষের সাথে মিডিয়া।পেট্রলের দাম কত বেড়েছে, সরকার কি কি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কোন কাজ গুলো হয়েছে , এবং কোন কাজগুলো বাকী আছে সবটাই আমরা পেয়ে থাকি তাদের মাধ্যমে। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিতেও দ্বিধা বোধ করেন না সাংবাদিকরা। এই জন্যই মিডিয়া ভারতের একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং সেই কারণেই গণমাধ্যমকে বলা হয়
গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ।
সাংবাদিকতার এক নতুন যুগের সূচনা কে লক্ষ্য করে, এডমন্ড বার্ক (Edmund Burke)
সাংবাদিকতা কে চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে আখ্যা দেন। তাৎকালীন সময়কে কেন্দ্র করে অর্থাৎ সাংবাদিকতার এক নতুন যুগের শুরুকে কেন্দ্র করে তিনি চতুর্থ স্তম্ভ রূপে গণমাধ্যমকে পরিবেশন করেন । কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিকে মাথায় রাখলে সে বিষয়ে এক বিরাট প্রশ্ন থেকেই যায় সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতা কিংবা সত্যতা কে নিয়ে।
যদি লক্ষ্য করে দেখা যায়, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সময় মানুষের কাছে সত্যি টাকে বারবার করে তুলে ধরার জন্য তাৎকালীন বিশিষ্ট কিছু স্বাধীনতা সংগ্রামীরা সংবাদপত্র সম্পাদনা করতে শুরু করেন। তাঁরা সত্যতা কে জানানোর চেষ্টা করেছিলেন, এবং চেষ্টা করেছিলেন ইংরেজ সরকারের করা শোষণ গুলো জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে তা থেকে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে। এবং যা করতে তারা একপ্রকার সফলতা ও পান। এবং এই ভাবে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়া স্বাধীনতার পরেও ঘটতে থাকে । যা আজকের সমাজেও বর্তমান।এবং মিডিয়া হয়ে ওঠে সমাজের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।
কিন্তু এক্ষেত্রেও কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় সংবাদ মাধ্যম গুলিকে, একটি এক টাকার কয়েন এর যেমন দুটি আলাদা আলাদা পিঠ লক্ষ্য করা যায়, ঠিক তেমনই প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই ভিন্নতা লক্ষ্যণীয়।
বাক স্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা
(Freedom of speech)
এই বিষয়ে প্রতি ক্ষেত্রেই কি পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয় ? মত প্রকাশের স্বাধীনতা কি আজ সংবাদ মাধ্যমের কাছে রয়েছে ?
প্রশ্নটি এই মর্মেই প্রথম করলাম, কারণ বিগত কয়েক বছরে এই "মত প্রকাশের স্বাধীনতা" থেকে প্রেস কে যথেষ্ট বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। এবং সত্যি বললে আজ সাংবাদিকদের মধ্যে চলে এসেছে বেঁচে থাকার প্রশ্ন । কারণ বর্তমানে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের মাত্রা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। একমাত্র সাধার মানুষের বাক স্বাধীনতাই প্রমাণ করে আসলে দেশটি কতটা সফল। ভোটের ফলাফল তখনই আন্দাজ করা সক্ষম হবে, যখন কোনো সংবাদমাধ্যম কে তা সুষ্ঠুভাবে কভার করতে দেওয়া হবে। আর যাই হোক মিথ্যা সম্প্রচার কখনোই কোনো মানুষকে সচেতন করতে পারে না। এবং সরকারের বিপক্ষে এই খবর পরিবেশন করা হলে মিডিয়া হাউসে নানান অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। কিংবা সাংবাদিকদের মারধর করা হয় বা হত্যা। কমিয়ে দেওয়া হয় বিজ্ঞাপনের মাত্রা। আর যাই হোক সংবাদসংস্থা গুলিও নিজেদের মুনাফা লাভের আশাতেই আমাদের খবর বা সংবাদ দিয়ে থাকেন।
খবর থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা :
খবর থেকে মানুষকে বঞ্চিতকরার জন্য প্রথমে মিডিয়ার কন্ঠ রোধ করতে হয়। বর্তমান পলিটিক্সের থেকে যদি দশ বছর পূর্বে ও যাওয়া যায় দেখা যাবে বিশিষ্ট নেতা মন্ত্রীরা ভয় পেতেন মিডিয়াকে। কারণ তাঁরা যানতেন "কলমে কথা বলে"। তাই কোনো ভুল করলে চাপে থাকতেন সেই সমস্ত নেতা মন্ত্রীরা।
এবং যদি এটা আজকের সাথে মেলানো যায়?
বোঝা যাবে এই সত্যি কথা বলার ক্ষমতাটা কোথায় যেন খর্ব হয়ে গেছে। যে মিডিয়ার একটা লেখায় সরকার বদলে যেত, সেক্ষেত্রে আজকের মিডিয়ার এরকম অবস্থা এরকম হলো কেন?
ভারত হোক কিংবা অন্য যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশ কিংবা অগণতান্ত্রিক দেশ, সর্বত্রই তখনই একটি সংবাদ মাধ্যম কাজ করবে যেখানে তারা পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে। অন্য পেশা গুলির মতো সাংবাদিকতা ও একটি পেশা। সেই কাজটি করার জন্য সুষ্ঠু কাজের পরিবেশ একান্ত কাম্য।
কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রভাবিত না হয়ে মিডিয়াকে নিজের প্রতি অত্যন্ত দায়িত্বশীল হতে হবে। যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয় সংবাদমাধ্যমের কাছে। এবং প্রেস আইনের মতেও কোনো ব্যক্তি বিশেষের বা গোষ্ঠীর দ্বারা মিডিয়া প্রভাবিত হবেন না।
যদি সঠিকভাবে মিডিয়াকে সংবাদ পরিবেশন করতে না দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে ক্ষতি হতে পারে সংবাদ কাঠামোর।
গণতন্ত্র একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং সক্রিয় গণমাধ্যম ছাড়া অর্থহীন ।কারণ সরকার যদি কোনো ভুল করে সেক্ষেত্রে গণমাধ্যমের কাজ সেই ভুল গুলো শুধরে দেওয়া। সরকার যে সিংহাসনে বসে কাজ করেন সেক্ষেত্রে জনগণের কাছে অনেক ক্ষেত্রে সরকারের অনিচ্ছাকৃত ভাবে ভুল বার্তা পৌছে যায়। এবং মিডিয়ার দায়িত্ব সে ভুল বার্তা গুলো সংশোধন করে সঠিক বার্তা পৌঁছাতে সাহায্য করা। এক্ষেত্রে বলা যেতেই পারে, চতুর্থ স্তম্ভ রূপে গণমাধ্যম এর ভূমিকা যথেষ্ট সক্রিয় এবং দায়িত্ববান। কিন্তু সেক্ষেত্রে যখন তাদের সম্পূর্ণ কাজের সুযোগ দেওয়া হয় না, এবং তখনই হারিয়ে যায় সংবাদের মান।
-Sanny bag


The essay is very helpful and helped me to know the some unknown facts and information which are significant in our study.
ReplyDeleteThank you for your feedback.
DeleteWe are also trying to clear your doubt. We will always be there . Follow us.